বহুরুপী

গঙ্গা নদীর তীরে সুশীল বাবু নামে এক মুদি দোকানী ভোরবেলা দোকানে এসে কর্মচারীকে জিজ্ঞেস

করছে-আব্দুল,চালে পাথর মিশাইছিস?

আব্দুল -জ্বী হুজুর।

দোকানী-চিনিতে বালু মিশাইছিস?

আব্দুল-জ্বী হুজুর।

দোকানী-মাখনে কলা মিশাইছিস?

আব্দুল -জ্বী হুজুর।

দোকানী-দুধে পানি মিশাইছিস?

আব্দুল -মিশাইছি হুজুর।

দোকানী-তাইলে তাড়াতাড়ি মসজিদে যা,তুই ফযরের নামাযটা পইড়া আয় ,আর আমি গঙ্গাস্নান কইরা আইতাছি!

***

আমরা মানব সম্প্রদায় এমন দোকানী চরিত্রেরই বেশি। কথায় এক,কাজে আরেক আর চিন্তায় আরেক। বর্তমানে মুৃখোশবিহীন মানুষের সংখ্যা শতকরা হিসেবে অাসবেনা,হয়তো হাজারে ২/৪ জন হতে পারে। বাকিরা মুৃখোশধারী।

যে অামরা অভুক্ত মানুষের ত্রাণ আত্বসাৎ করতে পারি অবলীলায়, সেই অামাদের পেট করোনা ভাইরাস ব্যতীত ভরবেনা বোধহয়। যে অামরা করোনা অাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারণে মৃত ব্যক্তির দাফনের কাজে খাটিয়াটা পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেইনা-নিরুপায়

সন্তানেরা মায়ের লাশ কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে যায়-সেই অামরা বোধহয় মৃত্যু ছাড়াই দৈনন্দিন কাজে খাটিয়া ব্যবহার করি নিয়মিত। রোগ হয়েছে বলে অামরা হসপিটাল থেকে পালাই,নির্দিষ্ট এলাকা থেকে পালিয়ে অনাক্রান্ত জনপদকে হুমকির মুখে ফেলি অাবলীলায়।সবকিছুতে সরকারের,পুলিশের দোষ খুঁজি-কিন্তু সাধারণ জনগণের জীবন বাঁচানোর জন্য বর্তমানে সরকার,অাইনশৃংখলা বাহিনী,প্রশাসন-যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা বাস্তবায়নে অামরা কতটা সহযোগিতা করছি অাম জনতা হিসেবে! অামাদের মত নীচ মানসিকতার জনগোষ্ঠী পৃথিবীর অারকোন দেশে অাল্লাহ পাঠাইছে কি না,একমাত্র অাল্লাহই জানেন।

বর্তমানে অামরা যে মহামারীর মুখোমুখি তাতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি,

দৈনন্দিন জীবনধারা হোঁচট খাচ্ছে এবং অারও খাবে।

অামাদের দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাচারিতা, নিজের অজান্তে করা অনাচার অার মুৃখোশধারী অাচরণগুলোও যেন হোঁচট খায়। যাতে থমকে দাড়িয়ে পিছনফিরে এযাবৎকৃত কদর্য কাজগুলোর জন্য অনুতাপ জাগে মনে।অার এ অনুতাপ ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, প্রতিষ্ঠানিক এবং জাতীয় পর্যায়ে

যেন হৃদয়ঙ্গম করার সক্ষমতা দেন সৃষ্টিকর্তা। এই করোনা নামক মহামারী থেকে অামাদের সবাইকে রক্ষা করে,বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে সৎ এবং প্রতিটা রাষ্ট্রকে যেন সত্যিকার কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হতে করুণা করেন মহান অাল্লাহ। ১০.৪.২০২০ খ্রি:

Similar Posts

  • ঘটক

    আজ সকালে বাজার করে ফেরার সময় অটো রিক্সাতে উঠে বাসায় আসছিলাম। অটো চালকের বয়স ২৫-৩০ বছরের মধ্যে হবে। উচ্চতায় আমার চেয়ে বেশি বৈ কম হবেনা। লম্বা চওড়া ফর্সা বেশ সুঠাম দেহের অধিকারী। অটোর পিছনের সীটে আমি একা বসেছি। এক মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে চালক সামনের সীটে তার পাশেই পাকা চুল দাড়ির শুকনো মতো এক বয়ষ্ক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *