
আজ সকালে বাজার করে ফেরার সময় অটো রিক্সাতে উঠে বাসায় আসছিলাম। অটো চালকের বয়স ২৫-৩০ বছরের মধ্যে হবে। উচ্চতায় আমার চেয়ে বেশি বৈ কম হবেনা। লম্বা চওড়া ফর্সা বেশ সুঠাম দেহের অধিকারী। অটোর পিছনের সীটে আমি একা বসেছি। এক মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে চালক সামনের সীটে তার পাশেই পাকা চুল দাড়ির শুকনো মতো এক বয়ষ্ক মুরুব্বীকে বসালো যার বয়স ৬০+ হবে। চালক মুরুব্বীকে বসতে বলতে বলতেই শাসাচ্ছিল বেশ সিরিয়াস গলায়। আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তো দাদা/নানা সম্পর্কের কেউ তাই এভাবে শাসাচ্ছে। অটো চালকের শাসানো কথাগুলো ছিলো এরকম-
আপনি আমার যে ক্ষতি করেছেন তা আর কারও কইরেননা/বয়সতো কম হয়নাই,মরণতো লাগবো,আমার মতো কারও জীবন নষ্ট কইরেননা আর/আমার যদি জমি-জমা থাকতো আপনেগো দুইডারেই খুন করতাম আমি/আপনেরে মারতেতো বেশি কিছু করন লাগবোনা,অটো থেকে ধাক্কা দিলেই পড়ে মরে যাবেন/আমার জীবনডা আপনে নষ্ট করে দিছেন/আপনের কোন ক্ষতি করছিলাম আমি/আপনি জেনে শুনেই আমার এমন ক্ষতি করেছেন
-এরকম আরও অনেক কথা মুরুব্বীকে বলছিলো অটো চালক। মুরুব্বী একটা শব্দও বলছিলোনা। তবে পিছনে বসেও আমি বুঝতে পারছিলাম মুরুব্বী মুচকি মুচকি হাসছেন। কলেজ মোড়ে এসে মুরুব্বী নেমে গেলেন অটো থেকে ভাড়া ছাড়াই,চালকও ভাড়া চাননি। নামার সময়ও অটোচালক শেষবারের মতো বলে দিলেন-আমার মতো আর কারও জীবন নষ্ট কইরেননা।
কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করলাম -ভাই,উনি আপনার কী করেছেন ,এতো ক্ষেপছেন যে! অটো চালক বললো-ভাই,উনি ঘটক,আমারে বিয়া করাইয়া দিছে!